সংগঠনটি বলছে, কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে বিদ্যমান করদাতাদের ওপর চাপ না বাড়িয়ে করজাল সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন করদাতা খুঁজে বের করা জরুরি। এর মাধ্যমে বিদ্যমান করদাতাদের ওপর অহেতুক করভার কমে গিয়ে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি হবে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ দাবি তোলা হয়।
আলোচনা সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. আবদুর রহমান খান এফসিএমএ কর ও শুল্ক ব্যবস্থার সহজায়নে সংস্থাটির পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমরা উৎসে কর কর্তনের বিষয়টি সহজ করেছি। একইভাবে আরো অনেকগুলো কাজ আমরা করছি। বিশেষ করে অটোমেশনের ক্ষেত্রে আমরা অনেকগুলো উদ্যোগ নিয়েছি। বন্ড সুবিধার ক্ষেত্রে ম্যানুয়ালি কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যেভাবে দৌড়াদৌড়ি করতে হতো, সেগুলো কমানোর জন্য আমরা অটোমেটেড সিস্টেম তৈরি করেছি এবং এর ব্যবহারকে বাধ্যতামূলক করেছি। কাস্টমসের বন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমকে অটোমেটেড করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশন সিস্টেমকে সংযুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং সিস্টেমের সঙ্গে অ্যাসাইকুডাকে সংযুক্ত করা হয়েছে। যাতে এসব কাগজ আগে যেখানে সশরীরে গিয়ে সংগ্রহ করা লাগত, দৌড়াদৌড়ি করা লাগত; সেখানে এগুলো যাতে আমরা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সিস্টেম থেকে পেয়ে যাই। এগুলো করতে গিয়ে আগে বিভিন্ন জায়গায় টুকটাক ভুল হতো। এখন এন্ট্রি দেয়া ডেটাগুলো যখন এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় আমরা সহজেই স্থানান্তর করতে পারব, তখন কিন্তু আর এসব ভুল হবে না। আগামী বছর থেকে আমাদের করপোরেট ট্যাক্স রিটার্নও পুরোপুরি অনলাইনে চলে আসবে। আশা করি, সেক্ষেত্রে আমাদের ট্যাক্স অফিসের সঙ্গে আপনাদের যে সমস্যাগুলো হয়, সেগুলো অনেক কমে যাবে।’
অনুষ্ঠানে এফআইসিসিআইয়ের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ও বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপালী চৌধুরী, ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ পিএলসির সিইও মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী, এফআইসিসিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক টিআইএম নুরুল কবির, স্নেহাশীষ মাহমুদ অ্যান্ড কোম্পানির ফাউন্ডিং পার্টনার ও এফআইসিসিআইয়ের কনসালট্যান্ট স্নেহাশীষ বড়ুয়া প্রমুখ। সংগঠনটির পরিচালকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওরাকলের কান্ট্রি ম্যানেজার (বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটান) রুবাবা দৌলা, প্রাইসওয়াটারহাউজকুপার্স বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের কান্ট্রি ম্যানেজিং পার্টনার শামস জামান, রবি আজিয়াটা পিএলসির এমডি ও সিইও জিয়াদ সাতারা, মিৎসুবিশি করপোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার হিরোশি উয়েগাকি প্রমুখ।
সভায় এফআইসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট রূপালী চৌধুরী বলেন, ‘আমরা নীতিপরিকল্পনা প্রণয়নের সঙ্গে অংশগ্রহণমূলকভাবে কাজ করতে চাই এবং দেশের অর্থনীতিকেও একটা ভালো জায়গায় দেখতে চাই। কভিডের সময় থেকে ব্যবসায় এক ধরনের মন্দা দেখা যাচ্ছে। তারপর শুরু হলো ইউক্রেন যুদ্ধ। তখন ডলারের বিনিময় হার একবারে ৮৬ থেকে ১২২ টাকায় উঠে এলে। অনেকেই দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। এখনো বিভিন্ন খাত নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির মধ্যে রয়েছে। তার ওপর কোনোভাবে যদি পণ্যমূল্য বেড়ে যায়, তাহলে আমাদের ভোক্তা কমে যাবে। ফলে শেষ পর্যন্ত সংকোচনই হবে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, এটা সব খাতেই ঘটছে।’
সভায় এফআইসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে আসন্ন বাজেট নিয়ে প্রস্তাবগুলো তুলে ধরা হয়। এতে টেকসই বিনিয়োগ, জোরালো প্রবৃদ্ধি এবং রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধিতে যৌক্তিক ও দক্ষ কর কাঠামোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, উচ্চমাত্রার উৎসে করহার ও ব্যয়ের বিস্তৃত অগ্রহণযোগ্যতার কারণে করের কার্যকর হার বিধিবদ্ধ হারকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে উৎসে করহারের যৌক্তিকীকরণ ও প্রকৃত কর দায়ের মধ্যে সামঞ্জস্য আনা প্রয়োজন, যাতে বহুমাত্রিক কর আরোপ এড়ানো যায়।
এফআইসিসিআইয়ের প্রস্তাবে ব্যক্তি পর্যায়ের করদাতাদের ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি এবং নিম্ন কর স্তর (লোয়ার ট্যাক্স স্ল্যাব) পুনর্গঠনের ওপর জোর দিয়ে বলা হয়, এতে বেতনভুক ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর চাপ কমবে এবং ভোগ ব্যয় ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল কর ব্যবস্থা চালুর ওপর জোর দিয়ে বলা হয়, আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমসকে এক প্লাটফর্মে আনা গেলে দক্ষতা বাড়বে, পুনরাবৃত্তি কমবে এবং তথ্যনির্ভর প্রয়োগ নিশ্চিত হবে।